মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

আবহাওয়া পূর্বাভাস

ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোগে প্রাকটিকাল এ্যকশনের সহযোগীতায় কৃষিকাজের  জন্য বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আপডেট আবহাওয়া তথ্য ডাউনলোড করে আবহাওয়া পূর্বাভাস বোর্ডে সাপ্তাহিক তথ্য দিয়ে থাকি। এর মাধ্যমে কৃষকরা তাদের কৃষি ক্ষেতের রক্ষনা বেক্ষনের সহযোগীতা পায়। যেমন ধরুন এসপ্তাহে যদি অধিক বৃষ্টিপাত হয় তাহলে তারা তা এক সপ্তাহ আগে জানতে পেরে তাদের বীজ তলার জন্য পলিথিনের সাহায্যে বীজতলার যত্ন নিতে পারে এবং আমরা ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে কৃষি এবং মৎস্য কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকি।

 

 

যখন তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং আপেক্ষিক আদ্রতার কারনে ফসলের পরাগায়নে মারাত্নক ক্ষতি সাধন হয়, সে মুহুর্তে ফসলের ক্ষেতে পানি ছিটানোর মত একটি ছোট্ট ধারণা বিরাট পরিবর্তন আনতে পারে। স্বাবাবিক ভাবেই  কৃষিকার্যক্রমের প্রত্যেক ধাপ প্রাকৃতিক আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল। আদিমকাল থেকেই মানুষ আবহাওয়া মূল্যায়ন এবং বছর পর বছর তাদের পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাদের পরবর্তি কৃষিকাজ পরিচালনার সিদ্ধামত্ম নেয়। সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষক তাদের জ্ঞান ও পর্যবেক্ষনের সাথে ভবিষ্যতবাণী সঙ্গে সঙ্গে মেলাতে পারেনা। আর যদি কৃষক বন্যার আগাম বার্তা জানতে পারে তখন সে ক্ষেতের ফসল আগাম কেটে ফসলকে মোট ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারত। অথবা তিনি যদি জানতে পারেন এ সপ্তাহে ভারী বৃষ্টিপাত হবে তাহলে শুকানোর জন্য জমিতে কেটে রাখা ফসল তাড়াতাড়ি ঘরে তুলে আনতেন। চাষী যদি জানতে পারতেন যে ভারী বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার বৃদ্ধির ফলে তার ঘেরের বা পুকুরের পানির অক্সিজেন কমে  গেছে বা ক্ষারত্ব হ্রাস বা অমস্নত্ব বেড়ে গেছে তাহলে প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিতে পারতেন। অন্যদিকে ভাল ব্যবস্থাপনার জন্য আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিতেন।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (BMD) আবহাওয়া পূর্বাভাস বিভাগ নিয়মিত ভাবে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে  সামগ্রিক দেশের জন্য আবহাওয়ার সাপ্তাহিক পূর্বাভাস প্রচার করে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাদান কেন্দ্র এখন ইন্টারনেট, প্রিন্টারএবং আনুষাঙ্গিক জিনিস পত্র দ্বারা  সুসজ্জিত। এসব যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য দু’জন উদ্যেক্তাও  নিয়োগ করা আছে। অতএব, ইউনিয়ন পর্যায়ে ভালভাবে খামার পরিচালনার জন্য এখন যে কেউ সহজেই আবহাওয়া তথ্যও সাহায্য পেতে পারেন। এখানে সমস্যা হলো: ১) কৃষক এসব তথ্য প্রাপ্তির জন্য সচেতননা; ২) কৃষক এসব সুবিধা পাওয়া যায় এ সম্পর্কে এবং আবহাওয়া পূর্বাভাসের মানে বোঝার জন্য প্রয়াজন অনুযায়ী প্রশিক্ষন প্রাপ্ত নয়; এবং ৩) স্থানীয় ভাবে পরামর্শ প্রদানেরজন্য  উপযুক্ত লোকবল ও প্রয়োজন। কৃষকদেরকে আবহাওয়ার তথ্য ব্যবহারযোগ্যতা ও বোধগম্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশ কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘‘আবহাওয়া পূর্বাভাস বোর্ড’’ নামে ইউনিয়ন পরিষদে ঝুলমত্ম আছে। এটা চাষীদের গত সপ্তাহ, চলতি সপ্তাহ এবং পরবর্তি সপ্তাহের সাপ্তাহিক গড় বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, সূর্যালোক ঘন্টা, বাষ্পী ভবনের হার বোঝানোর জন্য বিভিন্ন সহজবোধ্য চিহ্ন ব্যবাহার করা হয়েছে যাতে চাষীরা সহজে বোঝেন এবং ভাল খামার ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। তথ্য কেন্দ্রের প্রশিক্ষিক উদ্যেক্তা বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে নিয়মিত সাপ্তাহিক আবহাওয়া পূর্বাভাসের তথ্য নামান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপজেলা পর্যায়ের মৎস্য, কৃষি এবং পশুসম্পদ দপ্তরের সাথে শেয়ার করেন এবং তাদের দেয়া পরামর্শ সংগ্রহ করে বোর্ডে বুলিয়ে দেন; তা দেখে কৃষকরা তাদের খামারের ঝুঁকি পরিমাপ করেত পারেন বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তাছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল বিভাগের বিশেষজ্ঞদের মোবাইল নম্বর বোর্ডে দেয়া থাকে ফলে কৃষকরা জরম্নরী মুহুর্তে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়াও যে কোন ধরণের দূর্যোগ সর্ম্পকিত জরম্নরী তথ্য প্রদান বা অবহতির জন্য বোর্ডে স্থান রাখা আছে। ‘‘আবহাওয়া পূর্বাভাস বোর্ড’’ থেকে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তথ্য সেবা কেন্দ্রের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ে ফলে সেবা কেন্দ্রের উদ্যেক্তার আয় বাড়ে এবং উদ্যেক্তার সব কাজ করার প্রেরণার হাতিয়ার হিসেবে কাজকরে। একটি সহজ পূর্বাভাস কৃষকের ফসল, মাছ এবং পশু সম্পদ রক্ষা করে আমাদের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখতে পারে।

ছবি



Share with :

Facebook Twitter